Site icon ভ্রমণপিপাসু

মৈনট ঘাট

মৈনট ঘাট (Moinot Ghat Dhaka)

মৈনট ঘাট (Moinot Ghat Dhaka)

পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন

মৈনট ঘাট (Moinot Ghat Dhaka) ঢাকার কাছে যেন এক টুকরু কক্সবাজার। মিনি কক্সবাজার হিসেবে খ্যাত মৈনট ঘাট এক দিনে ভ্রমণের জন্য এটি চমৎকার একটি স্থান! ঢাকার দোহারে অবস্থিত এই ঘাট দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে। পরিবার বা বন্ধুবান্ধদের নিয়ে একটা দিন ঢাকার বাইরে ভ্রমণ করতে চাইলে মৈনট ঘাট ঘুরে আসতে পারেন। এখানে পদ্মা নদীর অপার জলরাশির, ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা আর পদ্মার তীরে হেটে বেড়ানো যে কেও মুগ্ধ হবেন। কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আছেন। এ কারণেই এই ঘাট ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত।

ঢাকার কাছে হওয়ার এবং দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার সুবিধার কারণে মৈনট ঘাট ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। স্পিড বোট বা ট্রলারে করে পদ্মার উপর ঘুরে বেড়াতে পারেন। মোটামুটি সাইজের একটা ট্রলার প্রতি ঘন্টা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিতে পারে। চাইলে পদ্মার জলে গা ভাসাতে পারেন আর সন্ধ্যার অপূর্ব সূর্যাস্থ তো থাকছেই।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময় 

বর্ষা মৌসুমে অথবা একটু ঠান্ডার সময় মৈনট ঘাট ঘোরার উপযুক্ত সময। গ্রীষ্ম মৌসুমে এখানে বাদামের চাষ হয় এবং ঘাটের একপাশ জুড়ে বাদামের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। অন্য দিকে বর্ষায় পুরোটা পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। শুকনো বা শীতে এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। মৈনট ঘাটে স্পীডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্তের দৃশ্য ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ করে বার বার। 

আরও পড়ুনঃ শিশু মেলা বা ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক

ভ্রমণ খরচ 

স্পীডবোটে মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন যেতে জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়া লাগবে। যেতে সময় লাগবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। আধা ঘণ্টার জন্য স্পীডবোট রিজার্ভ ভেসে বেড়াতে পারেন পদ্মার বুকে। এক্ষত্রে ভাড়া লাগবে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ট্রলার রিজার্ভ করে পদ্মায় ঘুরতে চাইলে ঘন্টা প্রতি  ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা ভাড়া লাগে। এছাড়া ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকা নিয়ে ঘুরতে চাইলে ঘন্টা প্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া লাগে। 

মৈনট ঘাট যাবার উপায়

ঢাকার গুলিস্তান থেকে গোলাপ শাহ মাজারের সামনে দিয়ে দোহারগামী অনেক বাস নিয়মিত যাতায়ত করে। তবে সব বাস দোহারের মৈনট ঘাট পর্যন্ত যায় না। শুধুমাত্র যমুনা ডিলাক্স পরিবহণের বাস মৈনট ঘাট পর্যন্ত যায়। তাই বাসে উঠার আগে জেনে নিন বাসটি কি মৈনট ঘাট যাবে কিনা। গুলিস্তান থেকে মৈনট ঘাট যেতে ভাড়া লাগে ১২০ থেকে ২০০ টাকা। যেতে সময় লাগে মাত্র দুই ঘন্টা। মৈনট ঘাট থেকে ঢাকাগামী শেষ বাস সন্ধ্যা ৬ টায় ছেড়ে আসে। তাই যেখানেই থাকুন না কেন বাসে আসতে চাইলে ৬ টার আগেই বাস স্ট্যান্ডে উপস্থিত থাকতে হবে।

এছাড়া গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে এন মল্লিক পরিবহণে মৈনট ঘাট আসতে চাইলে আপনাকে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা নামতে হবে। ভাড়া লাগবে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এরপর মাঝিরকান্দা থেকে অটো করে ১৫ টাকা ভাড়াতে দোহারের বাঁশতলায় আসতে হবে। বাঁশতলা থেকে অটো করে ১৫ টাকা ভাড়াতে কার্তিকপুর আসতে হবে। কার্তিকপুর বাজারে মৈনট ঘাট যাবার অটো পাওয়া যায়। যেতে ভাড়া নিবে ১০ টাকা, আর রিক্সা ভাড়া নিবে ২০ টাকা। 

সময় থাকলে পথে লক্ষ্মীপ্রসাদ স্থানে নেমে পোদ্দারবাড়ি দেখে নিতে পারেন। এছাড়া জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, কোকিলপ্যারি দালান, আন্ধার কোঠা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে পারেন।

কোথায় খাবেন

বেশিরভাগ মানুষেরই চাই পদ্মার তীরে বসে পদ্মার নামকরা ইলিশ খেতে। মৈনট ঘাটে দু’টি ভাতের হোটেল রয়েছে। একটি আতাহার চৌধুরীর হোটেল অপরটি জুলহাস ভূঁইয়ার হোটেল। আতাহার চৌধুরীর হোটেলে ইলিশ ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। এছাড়াও বোয়াল ৮০ থেকে ১২০ টাকা, চিংড়ি ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ভাত ১০ টাকা প্লেট। আর কার্তিকপুর বাজারে শিকদার ফাস্টফুড নামক একটা খাবারের দোকান রয়েছে, ঢাকা হোটেল সহ আরও কিছু খাবারের হোটেলও আছে। মৈনট ঘাট ঘুরতে গেলে  কার্তিকপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খেতে ভুলবেন না। এখানকার মিষ্টি অনেকে বিদেশেও পাঠায়।

নিরাঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডার, মুসলিম সুইটস, রনজিৎ মিষ্টান্ন ভান্ডার সহ আরও কিছু মিষ্টির দোকান রয়েছে এখানে। ছানার রসগোল্লা ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি। সাধারণ রসগোল্লা ১৫০  টাকা কেজি। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি। বালুশা ১৪০ টাকা কেজি। জিলাপি ১০০ টাকা কেজি। রসমালাই ৩০০ টাকা কেজি। দধি ১৪০ টাকা কেজি।

সতর্কতা

গোসল করার সময় পদ্মার বেশি গভীরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। সিগারেট অথবা খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল অথবা যেকোনো প্রকার ময়লা যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ দূষণ করবেন না। পাখি শিকার থেকে বিরত থাকুন। যার তার সামনে সিগারেট ফোঁকা থেকে বিরত থাকুন। দোকানদার, নৌকাচালক সহ সবার সাথে ভদ্র ও মার্জিত ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখুন নিজের কোনো আচরণের দ্বারা কোনো মেয়ে বিরক্ত হলো কিনা। কেউ মেয়েদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলে অথবা যেকোনো প্রকার সাহায্যের জন্য মৈনট ঘাটের একটু পাশেই অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করুন। 

 


পরিচিতদেরকে জানাতে শেয়ার করুন
Exit mobile version